কাচ্চি বিরিয়ানি
প্লেট আসলে কথা বন্ধ, চোখ বন্ধ। আলুটা কে পাবে — সেই যুদ্ধ আলাদা।
এদিক ওদিক হইলেই — শুধুমাত্র সাঁটানো
এইখানে ক্যালরি গোনা হয় না, প্লেট গোনা হয়। যা-ই হোক, যেখানেই যাও — উত্তর একটাই: সাঁটাও।
অলিখিত ছিল। আজ লিখে ফেললাম। অমান্য করলে প্লেট কেড়ে নেওয়া হবে।
খাবার ঠান্ডা হয়ে গেলে ছবির কোনো দাম নাই। ৩০ সেকেন্ড, ব্যস।
তবে শেষ পিসটা যে বিল দিছে, তার। এইটা সংবিধান।
ঝাল কমানো যায়, ইজ্জত কমানো যায় না। পানি খাও, চুপ থাকো।
বলতে চাইলে বাইরে গিয়ে বলো। ভেতরে শুধু সাঁটানো হয়।
সময়ের দাম আছে। বিরিয়ানির আলুর দাম আরও বেশি।
পেট ভরছে মানে ভাতের পেট ভরছে। জিলাপির পেট এখনো খালি।
ভাতঘুম কোনো আলসেমি না, এইটা হজম প্রক্রিয়ার সরকারি অংশ। কেউ কিছু বললে এই লাইনটা দেখাইয়া দিও।
বাটন চাপো। যত চাপবা, তত র্যাংক। ক্যালরি এইখানে গোনা হয় না।
তোমার সাঁটা-কাউন্ট
নবীন সাঁটুরে
টিপস: পুরা পেইজের যেকোনো জায়গায় ক্লিক করলেও সাঁটানো হয়।
প্রত্যেক টেবিলে এই ছয়জন থাকেই। একজন তুমি — অস্বীকার কইরো না।
যা থাকে সব শেষ। বাটিতে চামচ ঘষার শব্দ শুনলেই বোঝা যায় ও এসে গেছে।
"না না তোমরা খাও" বলে বলে শেষ পর্যন্ত নিজেই নেয়। ত্যাগের অভিনয়ে অস্কার পাওয়া উচিত।
ছবি না তুলে কেউ হাত দিতে পারবে না। খাবার ঠান্ডা, কিন্তু ফিড গরম।
নাক দিয়ে পানি, চোখ লাল, তবু বলে — "মামা আরও দুইটা কাঁচামরিচ দেন"।
নিজে কখনো অর্ডার করে না। "একটু টেস্ট করি" বলে অর্ধেক সাঁটায় দেয়।
রাত ২টায় ফ্রিজের দরজা খোলার শব্দ। ঠান্ডা ভাত আর ভর্তা — এইটাই শান্তি।
চারটা প্রশ্ন। সৎ উত্তর দাও। কেউ দেখছে না।
কোনো এজেন্সি না, কোনো স্ক্রিপ্ট না। সবই টেবিল থেকে সরাসরি।
“আমি সাঁটি, তাই আমি আছি।”
“ডায়েট শুরু করছিলাম। বিরিয়ানির গন্ধে ভুলে গেছি।”
“হলের ডাইনিং-এ শিখছি — দেরি করলে ডিম থাকে না।”
“মা রান্না করলে ক্যালরি কাউন্ট হয় না। এইটা বিজ্ঞান।”
অভিধানে খুঁজে লাভ নাই। সাঁটানো মানে খাওয়া না — সাঁটানো মানে মন দিয়ে, দ্রুত, লজ্জা ছাড়া খাওয়া। খাওয়া একটা কাজ, সাঁটানো একটা অনুভূতি।
না। এইখানে কোনো ডেলিভারি নাই, কার্ট নাই, বিল নাই। এইখানে শুধু অনুপ্রেরণা আছে। বাকিটা তোমার আর মোড়ের মামার মধ্যে।
অবশ্যই। সাঁটা পরিমাণে মাপা হয় না, মাপা হয় ভালোবাসায়। এক প্লেট ভাত যদি চোখ বন্ধ করে খাও — তুমি আমাদেরই লোক।
দেখা যাবে, তবে নিজ দায়িত্বে। আমরা কোনো ক্ষতিপূরণ দিব না। আর হ্যাঁ — ডায়েট সবসময় “আগামী সোমবার” থেকে শুরু হয়, এইটা তো জানাই।
যাবে। নিয়ম ৩ শুধু বলছে অভিযোগ করা যাবে না। পাশে এক গ্লাস পানি আর দুই চামচ দই রাখো — বাকিটা সাহস।
প্লেট নাও। ফোন নামাও। শুরু করো।
ইনশাআল্লাহ, দুই প্লেট।