এদিক ওদিক হইলেই — শুধুমাত্র সাঁটানো

এইখানে ক্যালরি গোনা হয় না, প্লেট গোনা হয়। যা-ই হোক, যেখানেই যাও — উত্তর একটাই: সাঁটাও

  • ২৪/৭ ক্ষুধা
  • অনুশোচনা
  • চা
  • নিয়ম: সাঁটাও
০১ / মেনিফেস্টো

সাঁটানোর ৭টা নিয়ম

অলিখিত ছিল। আজ লিখে ফেললাম। অমান্য করলে প্লেট কেড়ে নেওয়া হবে।

  1. প্লেট আসলে ফোন নামাও

    খাবার ঠান্ডা হয়ে গেলে ছবির কোনো দাম নাই। ৩০ সেকেন্ড, ব্যস।

  2. ভাগ চাইলে না বলা যাবে না

    তবে শেষ পিসটা যে বিল দিছে, তার। এইটা সংবিধান।

  3. ঝাল নিয়ে অভিযোগ নাই

    ঝাল কমানো যায়, ইজ্জত কমানো যায় না। পানি খাও, চুপ থাকো।

  4. টেবিলে "ডায়েট" শব্দ নিষিদ্ধ

    বলতে চাইলে বাইরে গিয়ে বলো। ভেতরে শুধু সাঁটানো হয়।

  5. দেরিতে আসলে ভাগ কম

    সময়ের দাম আছে। বিরিয়ানির আলুর দাম আরও বেশি।

  6. মিষ্টির জন্য আলাদা পেট

    পেট ভরছে মানে ভাতের পেট ভরছে। জিলাপির পেট এখনো খালি।

  7. সাঁটানোর পর ঘুম — ফরজ না, কিন্তু সুন্নত

    ভাতঘুম কোনো আলসেমি না, এইটা হজম প্রক্রিয়ার সরকারি অংশ। কেউ কিছু বললে এই লাইনটা দেখাইয়া দিও।

০৩ / যন্ত্রপাতি

সাঁটা-মিটার

বাটন চাপো। যত চাপবা, তত র‍্যাংক। ক্যালরি এইখানে গোনা হয় না।

তোমার সাঁটা-কাউন্ট

নবীন সাঁটুরে

টিপস: পুরা পেইজের যেকোনো জায়গায় ক্লিক করলেও সাঁটানো হয়।

আজকে কয় প্লেট সাঁটছো?

৩ প্লেট
রায়: স্বাভাবিক সাঁটা। কেউ কিছু বলবে না।
০৪ / চরিত্র

তুমি কোন সাঁটুরে?

প্রত্যেক টেবিলে এই ছয়জন থাকেই। একজন তুমি — অস্বীকার কইরো না।

টেবিল ক্লিনার

যা থাকে সব শেষ। বাটিতে চামচ ঘষার শব্দ শুনলেই বোঝা যায় ও এসে গেছে।

শেষ পিসের শহীদ

"না না তোমরা খাও" বলে বলে শেষ পর্যন্ত নিজেই নেয়। ত্যাগের অভিনয়ে অস্কার পাওয়া উচিত।

ফটো ফার্স্ট

ছবি না তুলে কেউ হাত দিতে পারবে না। খাবার ঠান্ডা, কিন্তু ফিড গরম।

ঝাল সম্রাট

নাক দিয়ে পানি, চোখ লাল, তবু বলে — "মামা আরও দুইটা কাঁচামরিচ দেন"।

ভাগ-চাই ভাই

নিজে কখনো অর্ডার করে না। "একটু টেস্ট করি" বলে অর্ধেক সাঁটায় দেয়।

মিডনাইট সাঁটুরে

রাত ২টায় ফ্রিজের দরজা খোলার শব্দ। ঠান্ডা ভাত আর ভর্তা — এইটাই শান্তি।

০৫ / পরীক্ষা

তুমি কোন লেভেলের সাঁটুরে?

চারটা প্রশ্ন। সৎ উত্তর দাও। কেউ দেখছে না।

প্রশ্ন ১ বিয়ের অনুষ্ঠানে তোমার প্লেট কেমন?
প্রশ্ন ২ রাত ১টায় ক্ষুধা লাগলে?
প্রশ্ন ৩ কেউ তোমার প্লেট থেকে নিতে চাইলে?
প্রশ্ন ৪ "পেট ভরছে" — এই কথাটা তুমি কখন বলো?
০৬ / জনতার কথা

যারা সাঁটে, তারা বলে

কোনো এজেন্সি না, কোনো স্ক্রিপ্ট না। সবই টেবিল থেকে সরাসরি।

“আমি সাঁটি, তাই আমি আছি।”
— রফিক, তেহারি বিভাগ
“ডায়েট শুরু করছিলাম। বিরিয়ানির গন্ধে ভুলে গেছি।”
— নুসরাত, ধানমন্ডি
“হলের ডাইনিং-এ শিখছি — দেরি করলে ডিম থাকে না।”
— তানভীর, দ্বিতীয় বর্ষ
“মা রান্না করলে ক্যালরি কাউন্ট হয় না। এইটা বিজ্ঞান।”
— অর্পিতা, চট্টগ্রাম
০৭ / প্রশ্নোত্তর

যা যা জিগায়

“সাঁটানো” মানে আসলে কী?

অভিধানে খুঁজে লাভ নাই। সাঁটানো মানে খাওয়া না — সাঁটানো মানে মন দিয়ে, দ্রুত, লজ্জা ছাড়া খাওয়া। খাওয়া একটা কাজ, সাঁটানো একটা অনুভূতি।

এই সাইট থেকে খাবার অর্ডার করা যায়?

না। এইখানে কোনো ডেলিভারি নাই, কার্ট নাই, বিল নাই। এইখানে শুধু অনুপ্রেরণা আছে। বাকিটা তোমার আর মোড়ের মামার মধ্যে।

আমি কম খাই। আমি কি সাঁটুরে হতে পারব?

অবশ্যই। সাঁটা পরিমাণে মাপা হয় না, মাপা হয় ভালোবাসায়। এক প্লেট ভাত যদি চোখ বন্ধ করে খাও — তুমি আমাদেরই লোক।

ডায়েট করলে কি এই সাইট দেখা যাবে?

দেখা যাবে, তবে নিজ দায়িত্বে। আমরা কোনো ক্ষতিপূরণ দিব না। আর হ্যাঁ — ডায়েট সবসময় “আগামী সোমবার” থেকে শুরু হয়, এইটা তো জানাই।

ঝাল সহ্য হয় না, তাও কি সাঁটা যাবে?

যাবে। নিয়ম ৩ শুধু বলছে অভিযোগ করা যাবে না। পাশে এক গ্লাস পানি আর দুই চামচ দই রাখো — বাকিটা সাহস।

আর ভাবাভাবি না।
সাঁটাও।

প্লেট নাও। ফোন নামাও। শুরু করো।

ইনশাআল্লাহ, দুই প্লেট।